নামাজ হলো মহান সৃষ্টি কর্তাকে স্মরণ করা এবং সৃষ্টি কর্তার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা হয়।

সালাত এর বাংলা অর্থ নামাজ।মৌলিকঅর্থে নামাজের কোনোই প্রকারভেদ নেই, নামাজে তুলনা শুধুমাত্র নামাজই।
অতএব গুরুত্ব বিবেচনায় ইসলামিক শরিয়ত নামাজকে ৪টি ভাগে বিভক্ত করেছে।
-
ফরজ নামাজ,
-
ওয়াজিব নামাজ,
-
সুন্নাত নামাজ ও
-
নফল নামাজ।
চলুন শুরু করি,ফরজ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ।
ফরজ : ফরজ মানে অবশ্য পালনীয়। ফরজ নামাজ অবশ্যই পড়তেই হবে।
ফরজ নামাজ না পড়লে আল্লাহর হুকুম /আদেশ অমান্য করা হলো।
আল্লাহর আদেশ অমান্য করাই বড় ধরনের গুনাহ লেখা হবে। ফরজ নামাজ আবার দুধরনের।
যথা– ১.ফরজে আইন।
যে নামাজ প্রত্যেকে মুসলিম নরনারী উপর আলাদাভাবে ফরজ।
ফরজে আইনের অন্তর্ভুক্ত নামাজগুলো কয়েক ভাগে ভাগ করা হয়েছে –
১ ফজরের নামাজ ২ জোহরের নামাজ ৩ আসরের নামাজ ৪ মাগরিবের নামাজ ৫ এশার নামাজ ও জুমার নামাজ।

২.ফরজে কিফায়া।
যে নামাজ আদায় করা প্রত্যেকে মুসলিম নরনারী উপর আলাদাভাবে ফরজ নয়। যেমন- জানাজার নামাজ।
ওয়াজিব :
যে নামাজের গুরুত্ব আসে ফরজের পর পরই। যেমন- দুই ঈদের নামাজ (ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার নামাজ)
ও এশার পর ৩ রাকাত বিতর নামাজ পড়া হচ্ছে ওয়াজিব। কেউ ইচ্ছাকৃত ও নিয়মিত না পড়লে গুনাহ হবে।
সুন্নাত : ফরজ নামাজ ও ওয়াজিব নামাজের পাশাপাশি সুন্নাত নামাজের গুরুত্বও কম নয়।
কারণ সঠিক পদ্ধতিতে গুরুত্ব সহকারে সুন্নাত নামাজ আদায় করার মাধ্যমে সর্বশ্রেষ্ট রাসুল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুপম আদর্শ অনুসরণ
ও তাঁর প্রতি অগাধ ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। সুন্নত নামাজের গুরুত্ব অনেক।
সুন্নাত নামাজের গুরুত্ব সম্পর্কে বলা হয়,
কিয়ামতের দিন হাশরের ময়দানে মিজানের দাড়িপাল্লায় কারো ফরজ নামাজে ঘাটতি থাকলে,
এ নামাজ দ্বারা আল্লাহতায়ালা সেই ঘাটতি পূরণ করবেন।
এ নামাজ আবার দুধরনের।
যথা- ১. সুন্নাতে মুয়াক্কাদা।
যেটা রাসুল (স:) নিয়মিত আদায় করতেন। যেমন- ফজরের ফরজের আগে ২ রাকাত; জোহরের ফরজের আগে ৪ রাকাত
ও পরে ২ রাকাত; মাগরিবের ফরজের পরেই ২ রাকাত; এশার ফরজের পরেই ২ রাকাত এবং তারাবির নামাজ।
২. সুন্নাতে গায়রে মুয়াক্কাদা।
যেই নামাজ রাসুল (স.) নিয়মিত আদায় করতেন না,
কখনো বিশেষ প্রয়োজনে ছেড়েও দিতেন।
এ নামাজ আদায় করলে অশেষ পুণ্য লাভ করা যায়, কিন্তু কোনো কারণে আদায় করতে না পারলে গুনাহ হবে না।
যেমন- আসরের ফরজের পূর্বে ৪ রাকাত এবং এশারের ফরজের পূর্বে ৪ রাকাত।
নফল : নফল নামাজ পড়লে অনেক সওয়াব পাওয়া যায়। অনেকের মতে, হাশরের মাঠে যদি ফরজ নামাজ প্রয়োজনের থেকে কম থাকে,
তাহলে মহান আল্লাহ ফরজের পরে ওয়াজিব, সুন্নাত ও নফল ইত্যাদি নামাজ থেকে নিয়ে সেই মানুষকেৃ উদ্ধারের চেষ্টা করবেন।
কাজেই আপাত দৃষ্টিতে এটা খুব একটা জরুরি মনে না হলেও প্রকৃতঅর্থে অত্যন্ত জরুরি।
এ নফল নামাজই রোজ হাশরে মানুষের জন্য বেহেশত-দোযখের সিদ্ধান্তকারী হয়ে যেতে পারে।

তাহাজ্জুদ, এশরাক, চাশত, আওয়াবিন- এগুলো হলো গুরুত্বপূর্ণ নফল নামাজ।
আমাদের সকরের উচিৎ সঠিক পদ্ধতি জেনে সঠিক পদ্ধতিতে গুরুত্ব সহকারে নামাজ আদায় করা।
ইসলামিক মহামানব ক্ষেতাব অর্জনকারী দেখে নিন।
Top 11 Islamic scholars in the world.
