সকল ব্যাংকে একাউন্ট খোলার বা ওপেন করার সময় কি? কি? কাগজপাত্র অথবা
ডকুমেন্টস প্রয়োজন এবং কি? নিয়মে কি? উপায়ে একাউন্ট করব কিংবা করতে হয় এ সম্পর্কে অনেকে জানিনা।

আজগে আমরা এই কনটেন্টে ব্যাংক একাউন্ট খোলার সহজ ও সঠিক নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখানে প্রচার করা হলো।
ব্যাংক একাউন্ট খোলার জন্য দুটি পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়ে থাকে।
১.নিকটস্থ ব্যাংকের শাখায় সরাসরি গিয়ে ও
২.অনলাইনে eAccount অ্যাপ থেকে।
ব্যাংকের শাখায় গিয়ে : আপনি যে গ্রামে অথবা যে শহরে বসবাস করেন, সেই গ্রামের কিংবা শহরের নিকটস্থ ব্যাংকের শাখায় সরাসরি গিয়ে ব্যাংক কমকর্তাকে বলতে হবে নতুন একাউন্ট খুলতে চাই ।
ব্যাংক ম্যানেজার বা ব্যাংক কমকর্তা ডকুমেন্টস/কাগজ পাতি চাইবে ও জিজ্ঞাস করবে আপনা কী ধরনের অ্যাকাউন্ট চান
• (যেমন- সেভিং অ্যাকাউন্ট/Saving Account স্টুডেন্ট অ্যাকাউন্ট/Student Account কারেন্ট অ্যাকাউন্ট/ Current Account)
আপনি এর মধ্যে থেকে যে ধরনের একাউন্ট করতে চান সেই একাউন্ট ব্যাংক কমকর্তা খুলে দিবে।
অনলাইনে Apps দিয়ে eAccount খোলা:
অনলাইনে ব্যাংক একাউন্ট খোলার জন্য প্রথমে আপনার Google Play store থেকে সম্পূর্ণ ফ্রিতে eAccount মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করে নিবেন।
অ্যাপসটি install সম্পুর্ণ হবার পরে ওপেন open করতে হবে । তারপর মেনুবার থেকে Saving Account সিলেক্ট করুন। ই-একাউন্ট অ্যাপসের মাধ্যমে শুধুমাত্র Saving Account খোলা সম্ভব।
অনলাইনে ব্যাংক একাউন্ট খোলার জন্য কয়েকটি ভেরিফাই ধাপে ধাপে সম্পুর্ণ করা দরকার।
মোবাইল নাম্বার ভেরিফাই আইডি কার্ড ভেরিফাই আবেদনকারীর ছবি কিংবা ফেস ভেরিফাই কিংবা ফিঙ্গার প্রিন্ট ভেরিফাই এবং তথ্য যাচাই বাছাই।
তাছাড়া নমিনির মোবাইল নাম্বার আইডি কার্ড ও তথ্য যাচাই বাছাই করা। সবশেষ অভিনন্দন মেসেজের অপেক্ষা করা।
অগ্রণী ব্যাংক একাউন্ট খুলতে কি কি কাগজ পত্র লাগবে বিস্তারিত দেখুন।
সকল ব্যাংকে একাউন্ট খুলতে কি কি ডকুমেন্টস লাগে
★NiD card বা জাতীয় পরিচয় পত্র অথবা জন্ম নিবন্ধন অথবা পাসপোর্টের কপি অথবা ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফটো কপি কিংবা স্টুডেন্ট হলে সার্টিফিকেট ফটো কপি।
★ঠিকানা প্রমাণের জন্য ইউটিলিটি বা বিদ্যুৎ বিলের কপি, হোল্ডিং প্লেট কপি।
★অ্যাকাউন্ট কারীর অথবা আবেদনকারীর ২-৩ কপি Passport Size রঙিন ছবি;
★ নমিনির NiD card বা জাতীয় পরিচয় পত্র অথবা জন্ম নিবন্ধন অথবা পাসপোর্টের কপি অথবা ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফটো কপি কিংবা স্টুডেন্ট হলে সার্টিফিকেট ফটো কপি এবং রঙিন ছবি ১ কপি;
★আবেদনকারীর টিন সার্টিফিকেট কপি (বিশেষ ক্ষেত্রে প্রয়োজন হতে পারে);
★অ্যাকাউন্টে নুন্যতম জমার পরিমাণ (৩০০টাকা-৫০০টাকা মত)
ধাপ-১: ফোন/মোবাইল নাম্বার ভেরিফাই করুন
আপনার মোবাইল নাম্বার দিতে হবে। Verification এর জন্য উক্ত মোবাইল নাম্বারে ৬ সংখ্যার (OTP) কোড আসবে এবং (OTP) কোডটি বসিয়ে দিতে হবে।
ধাপ-২: ভোটার আইডি কার্ড ভেরিফাই করুন
এখানে আপনার ভোটার আইডি কার্ডের উভয় পাশের ছবি তুলতে হবে। eAccount অ্যাপসের মধ্যে Automatic Camera চালু হবে,
যথাক্রমে ভোটার আইডি কার্ডের সামনের দিক ও পিছনের দিকের ছবি তুলুন এরপরে NEXT বাটনে ক্লিক করুন।
ধাপ ৩: আবেদনকারীর ছবি আপলোড করা
ভোটার আইডি কার্ডের ছবি আপলোড সম্পন্ন হওয়ার পরে Take Selfie অপশন থেকে CAPTURE বাটনে ক্লিক করলে অটোমেটিক ক্যামেরা ওপেন হয়ে যাবে।
পিছনে সুন্দর ব্যাকগ্রাউন্ড রেখেই আবেদনকারীর একটি সেলফি তুলে নিন। সফলভাবে আবেদনকারীর ছবি Upload হলে পরবর্তী ধাপে যাবে।
ধাপ ৪: আবেদনকারীর তথ্য প্রদান করুন
এনআইডি কার্ডের তথ্য অনুযায়ী স্বয়ংক্রীয়বাবে আবেদনকারীর সকল তথ্য চলে আসবে। যদি কোন তথ্য সঠিকভাবে না আসে,
কোন ভুল ত্রুটি বা বানান ভুল হয়, সেক্ষেত্রে আপনি নিজের তথ্যগুলো শুদ্ধ করে দিবেন।
অবশ্যই আবেদনকারীর ভোটার আইডি কার্ড অনুযায়ী তথ্যগুলো প্রদান করতে হবে।
ধাপ ৫: নমিনির তথ্য প্রদান করুন
আপনি এই একাউন্টে যাকে নমিনি রাখতে চান প্রথমে তার একটি ছবি upload করুন।
এরপরে যথাক্রমে নমিনির নাম, নমিনির সাথে আবেদনকারীর সম্পর্ক, ID Type (ভোটার আইডি কিংবা জন্মনিবন্ধন সনদ) সিলেক্ট করুন। এবং উক্ত আইডি নাম্বার বসিয়ে দিন এবং “NEXT” বাটনে ক্লিক করুন।
ধাপ ৬: ব্রাঞ্চের তথ্য ও অন্যান্য তথ্যাদি প্রদান করুন
এ পর্যায়ে আপনার নিন্মোক্ত তথ্যগুলো প্রদান করুন;
*বিভাগ, জেলা ও ব্রাঞ্চ/শাখার নাম সিলেক্ট করুন।
*পেশা ও ইনকাম সোর্স সিলেক্ট করুন।
*আপনার ইমেইল এড্রেস এবং বর্তমান ঠিকানা সিলেক্ট করুন।
*চেকবুক অথবা ATM কার্ড প্রয়োজন হলে এগুলো টিকমার্ক করে দিবেন। যদি এগুলো প্রয়োজন না হয় সেক্ষেত্রে টিক মার্ক দেওয়ার দরকার নেই। এরপরে পরবর্তী বাটনে ক্লিক করুন।
ধাপ ৭: প্রদানকৃত তথ্য যাচাই করুন
পরবর্তী বাটনে ক্লিক করার পরে আপনার একাউন্টের সকল তথ্য এখানে শো করবে। আপনার একাউন্টের নাম এবং ইমেইল এড্রেস ও জাতীয় পরিচয় পত্র নাম্বার এবং মোবাইল নাম্বার,নমিনির তথ্য, একাউন্টের ব্রাঞ্চ সম্পর্কিত সকল তথ্য দেখতে পারবেন।
পুনরায় সকল তথ্যগুলো যাচাই করে নিবেন সবকিছু ঠিক থাকলে নিচে Terms and Condition টিক মার্ক দিয়ে কনফার্ম বাটনে ক্লিক করে দিবেন।
ধাপ ৮: অভিনন্দন SMS এর অপেক্ষা করুন
সকল তথ্য সঠিকভাবে প্রদান করার পরে আপনাকে একটি অভিনন্দন (sms)এসএমএস পাঠানো হবে এবং আপনার আবেদন পূর্ণাঙ্গ তথ্যগুলো পিডিএফ আকারে আপনার ফোনে এসএমএস (sms)এর মাধ্যমে চলে আসবে। এবং উক্ত এসএমএস এ আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নাম্বার পাঠিয়ে দেয়া হবে।
ধাপ ৯: KYC সম্পন্ন করুন।
সফলভাবে আপনার অগ্রণী ব্যাংক একাউন্ট খোলা সম্পন্ন হয়েছে। পরবর্তীতে ৩ মাসের মধ্যে অগ্রণী ব্যাংকের শাখায় যোগাযোগ করে KYC Verification সম্পন্ন করতে হবে।
