মৌমাছি সম্পর্কে বিস্তারিত
মৌমাছি (ইংরাজী: Bee) মধু সংগ্রহকারী পতঙ্গবিশেষ। মৌমাছি মধু উৎপাদন ও মোম উৎপাদন এবং ফুলের প্রকৃত পরাগায়ণের জন্য শ্রােষ্ট।

বিজ্ঞানিদের রিসার্চ অনুসারে এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে ৯টি স্বীকৃত গোত্রের অধীনে প্রায় ২০-২১ হাজার মৌমাছি প্রজাতি আছে।
সংখ্যা আনুমানিক প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে।
আন্টার্কটিকা মহাদেশ ব্যতীত পৃথিবীর সকল মহাদেশের সব খানে পতঙ্গ-পরাগায়িত সপুষ্পক উদ্ভিদ আছে,সেখানেই মৌমাছি আছে।
আমাদেন এশিয়া মহাদেশে সর্বখনে মৌমাছি দেখা যায়।
ভারত, বাংলাদেশ,পাকিস্তান, আফগানস্থান,চিন,জাপান, নেপাল,
ভুটানে ইত্যাদি সচারাচর যে মৌমাছি দেখা যায় তার বৈজ্ঞানিক নাম এপিস ইন্ডিকা।
চালুন জেনে নি মৌমাছি সম্পর্কে বিস্তারিত।
মৌমাছি: নোবের জয়ী বিজ্ঞানি কার্ল বোর্ণ ফ্রেস তথ্য অনুসারে মৌমাছি ৩ প্রকার
- স্ত্রী মৌমাছি।
- পুরুষ মৌমাছি
- স্ত্রী শ্রমিক মৌমাছি
স্ত্রী মৌমাছি:
স্ত্রী মৌমাছিকে রানী মৌমাছি বলা হয়। রানী মৌমাছি দেখতে সাধারণত একটু বড় দেখায়।
মৌমাছি চাঁক বেঁধে বসবাস করে। প্রতি চাঁকে একটা মাত্র রানী মৌমাছি থাকে। রানী মৌমাছি ডিম পাড়ে বাচ্চা দেয়।
পুরুষ মৌমাছি:
পুরুষ মৌমাছি প্রজনন (বংশ) বৃদ্ধি করে থাকে। পুরুষ মৌমাছি আর একটি বিশেষ দায়িত্ব পালন করে সেটা হলো চাকের নিরাপত্তা প্রহরি হিসাবে কাজ করে ।
স্ত্রী শ্রমিক মৌমাছি:
স্ত্রী শ্রমিক মৌমাছি মূলত সকল কাজ করে থাকে। চাঁক তৈরি করা, মধু সংগ্রহ ও মধু সংরক্ষণ করা।
মধু চাঁক নিরাপত্তা প্রদান করা ইত্যাদি। কিন্তু প্রাকৃতিক ভাবে স্ত্রী শ্রমিক মৌমাছি প্রজনন ক্ষমতা থেকে অক্ষম।
আজকে আমরা জানবো চাঁক তৈরি করা, মধু সংগ্রহ ও মধু সংরক্ষণ করা এবং মধু চাঁক নিরাপত্তা প্রদান করা ইত্যাদি সম্পর্কে।
মৌচাঁক তৈরি :
প্রাকৃতিক ভাবে মৌমাছির পেটে প্যারাফিন নামক পদার্থ উৎপাদক গ্রন্থি আছে।
ঐ গ্রন্থি থেকে মৌমাছি অনেক পরিমান মোম নিঃসরণ করে থাকে । প্রাথম অবস্থায় মোম সাদা কাচের মতো স্পষ্ট ও পানির মতো বর্ণহীন থাকে।

Beey মূলত মৌচাক তৈরি করার জন্য মোম ব্যবহার করে থাকে । মৌমাছিগুলো তাদের নিঃসিরিত মোম দিয়ে মৌচাকের সুক্ষ্ম কোষ বানায়।
উক্ত কোষে মৌমাছিগুলো প্রত্যেকে থাকে এবং একটি নিদিষ্ট অংশে মধু সংরক্ষণ করে।
মধু সংগ্রহ :
হাজার- হজার, লক্ষ লক্ষ মৌমাছি পোকা বিভিন্ন দিকে মধু সংগ্রহ করতে বের হয়।
বিভিন্ন ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে। যদি কোন মৌমাছি ফুলের উদ্যান পায়।
সেই মৌমাছি চাঁকের অন্য মৌমাছিগুলোকে উদ্যানে পৌছানোর সঠিক রাস্তা বলে দেয়।
পর্যায়ক্রমে ঐ উদ্যান থেকে সকল মৌমাছি মধু সংগ্রহ করে। মৌচাঁকের নিদিষ্ট অংশে মধু সংরক্ষণ করে।
মধু সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা:
মৌমাছির কাজ শুধুমাত্র মধু সংগ্রহ করা না মধু সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা প্রদান করা।
Beey প্রধান শত্রু হলো পিঁপড়া এরা মৌচাকের সকল মধু খেয়ে ফেল।

এছাড়াও বিভিন্ন জাতের কিট পতঙ্গ উগ্রপন্থি পোকা মাকড় আছে যারা মৌমাছিকে বিরক্ত করে এবং মধু খাওয়ার চেষ্টা চালায়।
পিঁপড়া ও কিট পতঙ্গ পোকা-মাকড় থেকে মৌচাক ও মধুকে নিরাপত্তা প্রদানের জন্য রয়েছে নিরাপত্তা প্রহরি মৌমাছি ।
প্রহরি মৌমাছি সব সময়ে মৌচাকে নিরাপত্তা দিয়ে থাকে।
