হজের নিয়ম কানুন ও কার্যক্রম হাজিদের অবশ্যই জানা গুরুত্বপূর্ণ। হজ হলো গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও শারীরিক ইবাদত।
ইসলামিক শরীয়াত অনুযায়ী নির্দিষ্ট দিনসমূহে নির্ধারিত পদ্ধতিতে আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পবিত্র কাবাঘর ও সংশ্লিষ্ট স্থানসমূহে বিশেষ কার্যাদি সম্পাদন করাকে হজ বলে।

হজ্জ একটি ফরজ ইবাদত। যদিও হজ্জ ফরজ ইবাদত তথাপি সকলের প্রতি হজ্জ পালন আল্লাহ ফরজ করেন নি। প্রত্যেক সুস্থ, প্রাপ্তবয়স্ক, বুদ্ধিমান ও সামর্থ্যবান মুসলিম নরনারীর উপর জীবনে একবার হজ আদায় করা ফরজ।
এরপর যতবার হজ্জ করবে
তা নফল হিসেবে গণ্য হবে এবং অনেক অনেক সাওয়াবের অধিকারী হবে।
হজ্জ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন :
“মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঐ গৃহে হজ করা তার অবশ্য
কর্তব্য ।” (সূরা আলে-ইমরান, আয়াত ৯৭)
হজের নিয়ম ও কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত
হজের কার্যাদি গুলো ৩ ভাগে বিভক্ত সেগুলো
১। হজের ফরজসমূহ ২। হজের ওয়াজিবসমূহ ও হজের সুন্নতসমূহ
১। হজের ফরজসমূহঃ
হজ্জের ফরজ তিনটি
i). হজ্জের নিয়তে ইহরাম বাঁধা।
ii).আরাফার ময়দানে ৯ই জিলহজ তারিখে অবস্থান (ওকূফ) করা ।
iii).তাওয়াফে যিয়ারত করা।
২। হজ্জের ওয়াজিবসমূহঃ
হজের ওয়াজিব কাজ সাতটি
i).আরাফার ময়দান হতে প্রত্যাবর্তনের সময় মুযদালিফায় অবস্থান করা ।
ii).সাফা ও মারওয়া পাহাড়দ্বয়ের মাঝখানে দৌড়ানো বা সাঈ করা ।
iii).শয়তানকে (জামরাতুল আকাবায়) কংকর নিক্ষেপ করা।
iv)তাওয়াফে বিদা অর্থাৎ মক্কার বাইরে থেকে আগত হাজিদের জন্য বিদায়কালীন তাওয়াফ করা ।একে তাওয়াফুল বিদা (বিদায়ী তাওয়াফও) বলে ।
v).মাথা মুড়ানো বা চুল ছাঁটা।
vi)কুরবানি করা ।
vii)দম দেওয়া।
৩। হজের সুন্নতসমূহঃ
হজের অনেক সুন্নত রয়েছে। নিচে কয়েকটি সুন্নাত উল্লেখ করা হলো :
i).বহিরাগতদের জন্য তাওয়াফে কুদুম (আগমনী তাওয়াফ) করা ।
ii).হাজরে আসওয়াদ থেকে তাওয়াফ শুরু করা ।
iii).জিলহজ মাসের ৭ তারিখে ইমামের মক্কায় হজ সম্পর্কে খুতবা প্রদান করা। ৯ তারিখে আরাফায়
দ্বিপ্রহরের পর খুতবা প্রদান করা । একাদশ তারিখে মিনায় খুতবা দেওয়া ।
vi)৮ই জিলহজে মক্কা থেকে মিনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করা, মিনায় উপস্থিত হয়ে যোহর থেকে ৯ই জিলহজের
ফজর পর্যন্ত অবস্থান করে পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা।
v).৯ই জিলহজে সূর্য ওঠার পর মিনা থেকে আরাফার দিকে রওয়ানা করা ।
vi).সম্ভব হলে আরাফাতে গোসল করা।
vii). ইহরাম বাঁধার আগে গোসল করা।
viii). মুদালিফায় রাত কাটানোর পর ফজরের নামায আদায় করে সূর্য উদয়ের পূর্বে মিনার দিকে রওয়ানা করা ।
ix). জিলহজ মাসের ১১, ১২ তারিখে কংকর নিক্ষেপ (রামি) এর জন্য মিনাতে রাতযাপন করা ।
x). জিলহজ মাসের ১১, ১২ ও ১৩ তারিখে ক্রমধারা ঠিক রেখে কংকর নিক্ষেপ করা ।
হজের ত্রুটি ও তা সংশোধনের উপায়:
হজ্জ পালনকালে অনিচ্ছায়ও অনেক ত্রুটি-বিচ্যুতি বা নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটতে পারে। এই ত্রুটির কোনোট
গুরুতর আবার কোনোটি সাধারণ পর্যায়ের হয়ে থাকে।
হজের ওয়াজিব পালনে ধারাবাহিকতার ব্যাতিক্রম
ঘটলে ‘দম’ ওয়াজিব হয়।
যেমন : মাথা মুণ্ডনের পূর্বে শয়তানকে কংকর নিক্ষেপ করা। আর “দম” একটি ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা কুরবানি করা । উট,গরু বা মহিষের এক-সপ্তমাংশও এর স্থলাভিষিক্ত হতে পারে। সাধারণভাবে ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজগুলো বা হারাম শরিফ এলাকায় নিষিদ্ধ কোনো কাজ করলে
প্রতিকার স্বরূপ ‘দম’ বা কুরবানি করতে হয়। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাদাকা নিতে হয়।
